কুরআনে মানুষের যে মর্যাদা ও পুরস্কার ঘোষিত হয়েছে

65

আল্লাহ তাআলার কাছে মানুষের মর্যাদা ও উৎকৃষ্টতার মাপকাঠি বংশ, গোত্র ও আভিজাত্য নয় বরং মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা পরহেজগারি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে বেশি ভয় করে; আল্লাহর দরবারে মানুষের মর্যাদাও ততবেশি। আর আল্লাহর কাছে যার মর্যাদা বেশি, দুনিয়া ও পরকালেও তার মর্যাদা বেশি।

মানুষ বহু বর্ণ গোত্র ও জাতিতে বিভক্ত। কিন্তু মানুষের মূল এক ও অভিন্ন। মানুষের মর্যাদা তার কাজ ও মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। মানুষের বর্ণ ভাষা, স্বভাব, চরিত্র, প্রতিভা ও যোগ্যতা একটা সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য। এগুলোর কোনো মূল্য আল্লাহ তাআলার কাছে নেই।

আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে একটি মাত্র উপাদান রয়েছে। যা দ্বারা মানুষের মানুষের মান-মর্যাদা পরিমাপ করা যায়; মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। যে মাপকাঠি আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

> ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাবান; যে অধিক মুত্তাকি বা আল্লাহ ভিরু।’ (সুরা হুজরাত : আয়াত ১৩)
> ‘পাথেয় সংগ্রহ কর। আত্মসংযম (তাকওয়া) শ্রেষ্ট পাথেয়। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৯৭)

সুতরাং যে যাই বলুক না কেন, আল্লাহর কাছে যে ব্যক্তি সম্মানিত সেই ব্যক্তি মানুষের মাঝে সর্বাধিক সম্মানিত ও সৎ। কেননা আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার দ্বারা পরিমাপ করেন না। বরং তিনি মানুষের তাকওয়া বা তার ভয়ের দ্বারা মানুষের মর্যাদা নির্ণয় করেন।

তাকওয়াবান ব্যক্তিদের পুরস্কার
মুত্তাকি ব্যক্তিরা আল্লাহর কাছে অনেক মর্যাদাবান। তাদের জন্য কুরআনুল কারিমের সুস্পষ্ট পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন-
> ‘মুত্তাকিদের জন্য তার প্রতিপালকের কাছে অবশ্যই রয়েছে ভোগ-বিলাসপূর্ণ জান্নাত।’ (সুরা কলম : আয়াত ৩৪)
> ‘ধৈর্য ধারণ করো। শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৪৯)
> ‘নিশ্চয় মুত্তাকিরা ভোগ-বিলাসে জান্নাতে অবস্থান করবে।’ (সুরা তুর : আয়াত ১৭)

দুনিয়ার চাক-চিক্যময় জীবন-যাপন দেখে যারা আল্লাহর বিধান অমান্য করে। তাদের জন্য রয়েছে সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা। সফলতা রয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ তাআলাকে দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও হুকুম-আহকাম পালনের ব্যাপারে ভয় করে। আর কুরআনের ভাষায় তারাই সফলকাম এবং দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় শুভ পরিণামও তাদের জন্য সুনির্ধারিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ ও সফলতা লাভে আল্লাহ তাআলাকে দুনিয়ার প্রতি কথা, কাজ ও বিধান পালনে যথযথ ভয় করে তাকওয়া অর্জন করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে যাবতীয় কল্যাণ ও সফলতা লঅভের তাওফিক দান করুন। আমিন।