‘কোটা নিয়ে সরকারের নিয়ত ঠিক থাকলে রায় সংশোধন করতে পারে’ :মওদুদ

34

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সরকারের যদি নিয়ত ঠিক থাকতো তাহলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায় এমেন্ড (সংশোধন) করতো।

শুক্রবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মওদুদ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের নাকি একটা রায় আছে। আমি যতদূর জানি, হাইকোর্টে এ বিষয়ে কোনও রায় আছে বলে আমার মনে হয় না। তারপরও হাইকোর্টের যদি এ ধরনের কোনও রায় থাকে সেটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ব্যাপারে আছে।

নাতি-নাতনিদের ব্যাপারে আছে বলে আমি মনে করি। তারপরও বলবো, প্রধানমন্ত্রী নিজের কথা রক্ষা করতে, তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকারই তো হাইকোর্টে গিয়ে সেটাকে সংশোধন করতে পারে।

যদি সরকার মনে করে হাইকোর্টের রায় হলো একমাত্র বাধা আর তাদের যদি প্রতিশ্রুতি পালন করতে এখনও রাজি থাকেন তাহলে রবিবার দিন সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল একটু কষ্ট করে যান এবং সোমবারে বিষয়টি লিস্টে আনেন, তাহলে যদি রায়টাকে সংশোধন করে নেন বা রিভিউ করে নেন। কত ধরনের পথ আছে। যদি নিয়ত ঠিক থাকে তাহলে এটাই করতেন।’

তিনি বলেন, ‘একথা বাংলাদেশের মানুষ এবং আমাদের প্রজন্ম তারা এটাকে মনে রাখবে যে বাংলাদেশের একজন প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রাখেন নাই। এখন যেই কথা দিয়ে তিনি সরে যেতে চাইছেন সেই কথা মোটেও টেকসই নয়।

যদি আপনারা সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রীর কথায় কোটা প্রত্যাহার করে নিতে চান, আর যদি বাধা থাকে হাইকোর্টে তাহলে সেই বাধা আপনারা অবশ্যই দূর করতে পারেন।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নিপীড়নের কথা তুলে ধরে মওদুদ বলেন, ‘তিনজন কি নিরীহ ছেলে! রাশেদ ১০ দিনের রিমান্ডে। তার মা হাহাকার করছে যে আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দেন। মা তো মা-ই।

প্রধানমন্ত্রীও তো একজন মা। সুতরাং কেন এই অত্যাচার নিপীড়ন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই মনমানসিকতাই হলো ফ্যাসিবাদ। এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। এটা সরকার জানে। তারা চায় মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ হোক।

তারা এত কষ্ট করে লেখাপড়া করে, তাদের বাবা-মা গরিব, জমি বিক্রি করে তাদের লেখাপড়া করায়। কিন্তু তারা কোটার জন্য চাকরি পায় না। কত বছর ধরে তারা এই ব্যথা বহন করছে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারে কোনও বক্তব্য নেই। এটা ন্যায্য কথা।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে তরিকুলের পা এবং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। এই অপরাধের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে অবশ্যই হবে। আজকে আপনারা ভাবতে পারেন আপনাদের কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না।

কিন্তু এটা ভাববেন না। এটা ভাববেন না এজন্য, সকলের উপরে একজন মহাবিচারক সবকিছু দেখছেন। রাজনীতি একটি গতিশীল বিষয়, যেকোনও মুহূর্তে যেকোনও ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা মনে করি দেশের মানুষ প্রস্তুত হয়ে গেছে মাঠে নামার জন্য। এখন আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে উপযুক্ত সময়ের জন্য।’

-বাংলা ট্রিবিউন