পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের প্রযুক্তি উদ্ভাবন

39

দেশে ঋতুভিত্তিক উৎপাদিত শাক-সবজি, ফল-মূল ও প্রাণিজ খাদ্য চক্রের কাঁচামাল ও পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়। সিরডাপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা চালিয়ে ‘মাল্টি কমিডিটি সোলার টানেল ড্রায়ার প্লান্ট’ শীর্ষক এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের গবেষকরা।

এর ফলে বিভিন্ন মৌসুমি ফলসহ কৃষিজাত পণ্য সহজেই দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (এনএফই) আয়োজিত ‘এনএফই ক্যারিয়ার এক্সপো-২০১৮’ এবং ‘মাল্টি কমিডিটি সোলার টানেল ড্রায়ার প্লান্ট’ প্রযুক্তির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু উপস্থিত ছিলেন।

সাভারের দত্তপাড়ায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- আইসিডিডিআরবির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. তাহমিদ আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন প্রমুখ।

AMU

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের প্রযুক্তি মাল্টি-কমিডিটি সোলার টানেল ড্রায়ার প্লান্ট উদ্ভাবনের ফলে পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণ সহজ হবে। এর মাধ্যমে কৃষক, ক্রেতা-ভোক্তা, কৃষি শিল্প উদ্যোক্তা, নীতি নির্ধারকসহ সকলেই উপকৃত হবে। এটি দেশিয় খাদ্যশিল্পের আধুনিকায়ন, গুণগত পরিবর্তন ও উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ উদোক্তাদের উৎসাহিত করতে রফতানির বিপরীতে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে দেশে দ্রুত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পখাত বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে ১৪০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় আড়াইশ উন্নতমানের মাঝারি খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কারিগরি জনবল এবং উন্নত প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। এ প্রবণতা ঠেকাতে তিনি কার্যকর ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ স্থাপনের পরামর্শ দেন।