জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের

151

ছোট ভাই জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শনিবার (৪ মে) রাত ১১টার দিকে ঢাকার বারিধারায় নিজের বাসভবনে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় এরশাদ বলেন, তার অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব তার ছোট ভাই জিএম কাদের পালন করবেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি এখন অনেক সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। সে কারণে তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জিএম কাদেরই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

নব্বই ঊর্ধ্ব এরশাদ বসেছিলেন হুইল চেয়ারে, প্রথমে তার কথাও শোনা যাচ্ছিল না একটু সামনে থেকেই। পরে সাংবাদিকদের অনুরোধে শব্দ করে লিখিত বক্তব্য পড়েন তিনি। তাও শেষ করতে পারছিলেন না। তখন পাশ থেকে জিএম কাদের বক্তব্যের বাকি অংশ পড়ে শোনান।

গত মাসেই জিএম কাদেরকে দলে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন এরশাদ।

কয়েক মাস ধরে অসুস্থ এরশাদ এরমধ্যে দুই দফায় সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। দেশে ফেরার পরও তেমন একটা প্রকাশ্যে আসেননি। সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে দলীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগে গত ১ জানুয়ারি প্রথম জাতীয় পার্টিতে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে ভাই কাদেরের নাম ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ।
জাতীয় পার্টিতে ফের অস্থিরতা

এরপর এরশাদের অনুপস্থিতিতে জি এম কাদের দায়িত্বভার গ্রহণের পর ‘রওশনপন্থি’ বলে পরিচিত নেতারা নাখোশ মনোভাবও দেখান বিভিন্ন সভায়।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের দলে জি এম কাদেরের উপরে জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন তার স্ত্রী রওশন এরশাদ। রওশনের সঙ্গে কাদেরের বিবাদ জাতীয় পার্টির মধ্যে বরাবরই আলোচিত।

সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পর গত ২২ মার্চ দলে ‘বিভেদ’ তৈরি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ‘ব্যর্থতার’ অভিযোগ তুলে জি এম কাদেরকে কো চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ। পরদিন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও কাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সংসদের উপনেতা করা হয় রওশনকে।

এরপর সপ্তাহ দুয়েক না হতেই গত ৪ এপ্রিল জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যানের পদ ফিরিয়ে দেন এরশাদ। দুদিন বাদে এক ‘সাংগঠনিক নির্দেশে’ তাকে আবার দলের ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যানও ঘোষণা করেন।

সূত্র : সোনালী নিউজ