ফণীর আঘাতে কোন জেলায় কেমন ক্ষতি হয়েছে

139

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে নানান ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বরগুনা, নোয়াখালী ও পটুয়াখালী জেলাতে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, বরগুনা, নোয়াখালী ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকদের সাথে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ পরবর্তী অবস্থা নিয়ে কথা হয় বিডি২৪লাইভ’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগের।

ঘূর্ণিঝড় ফণী পরবর্তী অবস্থা নিয়ে ৯ জেলা প্রশাসকদের দেয়া তথ্য তুলে ধরা হল:-

বরগুনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমাদের জেলায় ঝড়ের কবলে দুই জন নিহত হয়েছে। আমরা প্রস্তুত ছিলাম ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলার জন্য। কিন্তু আমরা যে ধরণের প্রস্তুত ছিলাম সেই ধরণের ঘটনা ঘটেনি। জেলার কয়েকটি মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বাঁধ ভেঙে আশপাশের ১৭ কিলোমিটার যায়গা পানিবদ্ধ হয়ে যায়।

বাঁধ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি খুব শিঘ্রই ঠিক হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ২১০টন চাল বিতরণ করেছি। সেই সাথে প্রতিটি উপজেলায় ১লাখ করে টাকা অনুদান দিয়েছি।’

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী আমাদের জেলার উপরে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ১জন নিহত হয়েছে সেটা অন্য কারণে। তবে ফণীর প্রভাবে যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে আমাদের জেলার আম, লিচু বাগানের উপকার হয়েছে। মেহেরপুর জেলাতে এক সময় যে পরিমাণ মাটির ঘরবাড়ি ছিল এখন তা নেই। আমরা যে কোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।’

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক অন্ময় দাস বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে আমাদের জেলায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রস্তুত ছিলাম মোকাবেলার জন্য। না হলে হয়তো আরও বেশি ক্ষতি হতে পারতো। আমাদের জেলায় ৬৮৯টি মাটির ঘর বা কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। আর ৩৩৩টি ঘরবাড়ি আকস্মিক ভাবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের বাসস্থানের জন্য মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেছি। দুই এক দিনের মধ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নতুন ঘর দিবো। ইতিমধ্যে ২ হাজার প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করেছি। যাদের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে তাদের পাশের স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করেছি। সেই সাথে পরিবার প্রতি ৫হাজার টাকা এবং ২০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে।’

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘ফণীর প্রভাব পড়েনি আমাদের জেলায়। সাধারণ বাতাস একটু হয়েছে। কোন ধরনের ছোট বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জেলাতে। যে একজন নিহত হয়েছে সেটা অন্য কারণে। ফণীর আগমনে যাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছিল তারা সবাই ঘরে ফিরে গেছে।’

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমরা ফণী মোকাবেলার জন্য প্রস্তত ছিলাম। সৃষ্টিকর্তার রহমতে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে কয়েকটি মাটির ঘর ধ্বসে পড়েছে। এর বেশি কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। জেলার সবাই নিরাপদে রয়েছে। আমরা সর্বদা সতর্ক ছিলাম ফণী মোকাবেলার জন্য।’

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আনুমানিক ৩৯০টি কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে ১ কিলোমিটার জুড়ে পানিবন্দি রয়েছে মানুষ। এছাড়া কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’

যশোর জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমাদের জেলাতে তেমন কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।’

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মতিউল ইমলাম চৌধুরী বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘পটুয়াখালীর আট উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ছয় হাজার একর ফসল, তিন হাজার গাছপালা, ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং দুই হাজার ৯২টি বসতঘর (আংশিক) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ১৭৫টি গবাদিপশু এবং ১১ মানুষ আহত হয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সবাই মিলে কাজ করার ফলে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। এ ধরনের সম্মিলিত প্রয়াস আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৩ মে) ভারতের উরিষায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এই ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৬ জন। উরিষার পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শনিবার ভোর ৬টার সময় বাংলাদেশে প্রবেশ করে ফণী। এরপর ৮ ঘণ্টার তাণ্ডবের পর বিকেল ৩টার দিকে দূর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে রুপ নেয় ফণী।

সূত্র :বিডি২৪লাইভ