সিডর কেড়ে নিল বড় ছেলে, মা ও ছোট ছেলেকে ফণী

170

গত ২০০৭ সালে অতি মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় সিডর কেড়ে নিয়েছে বড় ছেলেকে। সিডরের পর থেকে অনেক অভাব অনটন আর ছেলে হারানোর যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন স্ত্রী। আর অসুস্থ্য হয়ে মারা যান বাবা আব্দুল বারেক। আর এবার মা আর ছোট্ট ছেলেকে কেড়ে নিল সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী।

শুক্রবার (৩ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ঘরচাপা পড়ে মৃতু হয় মা নূরজাহান বেগম এবং ছোট ছেলে জাহিদুলের।

জানা যায়, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে বসবাস করত দরিদ্র জেলে ইব্রাহিম। অন্যের ট্রলারে মাছ ধরে জীবন সংসার চালাতো এই জেলে। স্ত্রী সন্তান আর বাবা-মাকে নিয়ে ভালোই কাটছিল তার। ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর যখন উপকূলে আঘাত হানে তখনও জীবিকার তাগিদে ট্রলারেই ছিলেন ইব্রাহীম। কিন্তু সেই ট্রলার থেকে জীবন্ত ফিরতে পারেনি তিনি। এরপরই শুরু হয় তার সংসারে অভাব আর অনাটন। অনেক কষ্টেই দিন পার করত তার পরিবার।

এদিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ায় জীবনের শেষ রক্ষার তাগিদে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় জলোচ্ছ্বাসের প্রবল তোড়ে স্ত্রী জেসমিনের কোল থেকে ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় বড় ছেলে রবিউলের। চোখের সামনে নিজের ছেলেকে কোল থেকে ছিটকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না মা। এক পর্যায়ে সন্তানের মৃত্যুর কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন জেসমিন। এরপর অভাবের সংসারের দৈনন্দিন যাতনা আর বৌ-শাশুড়ির ঝগড়ার এক পর্যায়ে বছর তিনেক আগে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন স্ত্রী জেসমিন।

তবে ছোট ছেলে জাহিদুল আর মেয়ে জান্নাতিকে নিয়ে একরকম চলছিল ইব্রাহীমের। এরইমধ্যে রোগে ভুগে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয় বাবা আব্দুল বারেকের।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহীম জানান, স্ত্রী জেসমিনের আত্মহত্যার দুই বছর পর আবার বিয়ে করেন তিনি। ছোট ছেলে জাহিদুল থাকতো পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় তার বড় বোন রাহিলার বাড়িতে। শুক্রবার সকালে রাহিলা জাহিদুলকে নিয়ে বেড়াতে আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সবাই মিলে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাইলেও বৃদ্ধা মা নূরজাহান রাজি না হওয়ায় সবাই থেকে যান বাড়িতে। রাত ৩টার দিকে প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে হঠাৎ ঘর ভেঙে পড়লে তার নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় বৃদ্ধা মা আর ছোট ছেলের।

এদিকে এমন ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে ইব্রাহীমের বাড়ি পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন। সে সময় তিনি জেলা প্রশানের পক্ষ থেকে ইব্রাহীমকে ৪০ হাজার টাকার সহযোগিতা দেন।

জাকির হোসেন বলেন, ইব্রাহীমের জীবন বড়ই দুঃখের। ইব্রাহীম যাতে সরকারি-বেসরকারিভাবে আরও সহযোগিতা পায় সে বিষয়ে তিনি সচেষ্ট থাকবেন।

সূত্র :বিডি২৪লাইভ