পবিত্র মাহে রমজানে ভালো মানের খেজুর চেনার উপায়

148

পবিত্র মাহে রমজানে রোজাদারদের ইফতারির তালিকায় খেজুর চাই-ই। রমজান মাস ছাড়াও সারা বছর এই সুস্বাদু ফলের কমবেশি চাহিদা থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে পাকা বিদেশি খেজুরের চল বেশি।

রমজান মাসে রোজাদারদের ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। তাই রমজানে খেজুরের চাহিদা বাড়ে। তবে ইফতারের খেজুর না খেলেই নয়। তাই বাজার থেকে খেজুর কেনার সময় অবশ্যই দেখে কিনতে হবে।

বাজারে অনেক ধরনের খেজুর আছে। বেশিরভাগ ক্রেতারা রমজানে খেজুর কেনেন। নিয়মিত খেজুর না কেনায় আসল পণ্য চিনতে চেনা যায় না। ফলে কিছু দোকানি নিম্নমানের খেজুরকে ভালো মানের বলে বিক্রি করেন। এছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খেজুর বাজারে রয়েছে।

মেয়াদ উত্তীর্ণ ও পচা খেজুর যেভাবে চিনবেন: 

বাজারে অনেক ধরনের খেজুর রয়েছে। ভালো খেজুর চেনার কিছু উপায় রয়েছে। প্যাক করা খেজুর কেনা সবচেয়ে ভালো। এই খেজুরগুলোর প্যাকেটে সাধারণত মেয়াদ লেখা থাকে। এছাড়া খোলা খেজুর কিনতে হলে খেয়াল রাখতে হবে খেজুরে যেন পচা গন্ধ, পোকা ধরা, বেশি কালছে, বেশি শুকিয়ে যাওয়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

খেজুর সাধারণত দেড় বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে খেজুর ভালো রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে আমাদের ফ্রিজের নরমালে রাখা। ফ্রিজের নরমাল তাপমাত্রা খেজুর ভালো রাখে।

বিশ্বের উন্নত জাতের খেজুর:

বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত জাতের খেজুর পাওয়া যায় সৌদি আরবে। দেশটিতে রয়েছে নানা জাতের খেজুর। নামও বিভিন্ন।

যেমন: আজুয়া, আনবারা, সাগি, সাফাওয়ি, মুসকানি, খালাস, ওয়াসালি, বেরহি, শালাবি, ডেইরি, মাবরুম, ওয়ান্নাহ, সেফরি, সুক্কারি, খুদরি।

আজওয়া: মদিনা শরিফের সর্বোত্তম খেজুর। এটা দেখতে কালো, বিচি ছোট এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।

সাফাওয়ি: এই খেজুর নরম। গাঢ় বাদামি রঙের লম্বাটে। খেতে মোটামুটি মিষ্টি।

আমবার: মদিনার বিখ্যাত খেজুরগুলোর মধ্যে একটি। খেতে কম মিষ্টি।

সুগায়ি: এই খেজুর বড় ও ছোট দুই আকারেই হয়। মুখে দিলে একটু কস লাগে। খেতে মিষ্টি। বাইরের আবরণ নরম।

মরিয়ম: লালচে রঙের এই খেজুর এক​ থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।

খেজুরের পুষ্টিগুণ:

ইফতারে যারা শরবত খান না, তারা কয়েকটি খেজুর খেয়ে এর চেয়েও বেশি শক্তি গ্রহণ করতে পারেন। খেজুর হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। রক্তপ্রবাহে গতি সঞ্চার করে।

অল্প কয়েকটা খেজুর খেলে ক্ষুধার তীব্রতা কমে যায়। এই ফল পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যদিকে শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে দেয়। ফলে মুটিয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে মজবুত করে।

খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। খেজুর ডি-হাইড্রেশন রোধ করে। শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সমতা রক্ষা করে।

সতর্কতা: যাদের ডায়াবেটিস এবং শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি, তাদের পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খেজুর খাওয়া উচিত।

সূত্র : সোনালী নিউজ