ইসরাইলী নারী সেনাদের পতিতাবৃত্তির যে কথা সবার অজানা

202

ইসরাইলের নারী সেনাদেরকে বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহারের কথা কম-বেশি সবাই জানে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এক রিপোর্টে জানা গেছে তাদের কিছু নোংরা কাজের কথা। ইসরাইলের নারী সেনারা অর্থের অভাবে পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হচ্ছে।

ইসরাইলের অন্তত ৫০০ সেনা পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরাইলী নারী সেনাদের পতিতাবৃত্তির তথ্য প্রকাশের পর সে দেশের পার্লামেন্টের একজন সদস্য একে ‘ লজ্জার প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেছেন। মিশেল রোজিন নামে ইসরাইলের এই নারী সংসদ সদস্য সোমবার জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকায় এক মতামত কলামে এ মন্তব্য করেছেন।

এছাড়া, ‘এলেম-ইয়ুথ ইন ডিসট্রেস ভলান্টিয়ার এসোসিয়েশন’র প্রকাশ করা অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরাইলের শতকরা ৩০ ভাগ তরুণ-তরুণী পতিতাবৃতিতে জড়িত যাদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছর। রোজিন বলেন, ইসরাইলের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইহুদিবাদী বহু নারী ও পুরুষ সেনারা পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে পরিস্থিতি সংকটজনক এবং এ অবস্থা ঠেকাতে আমাদেরকে অবশ্যই কাজ করতে হবে।

সংসদ সদস্য মিশেল রোজিন বলেন, ইসরাইলের সেনারা বার বার সহায়তার আবেদন জানালেও তারা কোনো সহযোগিতা পায় নি। ফলে তারা জীবনের প্রয়োজন মেটাতে অর্থ আয়ের জন্য পতিতাবৃত্তির মতো বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। রোজিন বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসরাইলের সেনা কমান্ডাররা বিষয়টি জানলেও তারা অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ভূমিকা নেন নি। এমনকি পতিতাবৃত্তির কোনো কোনো ঘটনা সেনাঘাঁটির ভেতরেই ঘটেছে।

একটি ঘটনা থেকে জানা গেছে, ইসরাইলি সেনাদের নারী বিষয়ক উপদেষ্টাকে একজন সেনা এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাঘাঁটির বাইরে যৌন বিষয়ক ঘটনা সেনাবাহিনীর আওতার বাইরের বিষয়।

সংসদ সদস্য রোজিন জানান, তিনি এরইমধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে ইস্যুটি জরুরিভিত্তিতে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীকে কেন অব্যাহতভাবে উপক্ষোর দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে- কমিটির কাছে সে প্রশ্নের জবাব চাওয়া হবে বলে জানান রোজিন।

ফিলিস্তিনি বীর কন্যা আহেদ তামিমিকে সম্মাননা জানিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার স্প্যানের রাজধানী মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাবেউ স্টেডিয়ামে তাদের সম্মাননা দেয় বিশ্বসেরা এই ক্লাবটি। তাদের অভ্যর্থনা জানান ক্লাবটির সাবেক স্ট্রাইকার এমিলিও বুতরাগুয়েনো। তিনি তামিমিদের উপহার দেন ব্যক্তিগতকৃত একটি জার্সি। খবর আল জাজিরা’র

১৭ বছর বয়সী কিশোরী আহেদ তামিমি গত বছরের ডিসেম্বরে দখলীকৃত পশ্চিম তীরের নবী সালেহ গ্রামে তার বাড়ির প্রাঙ্গণে ইসরাইলের দুই সেনাকে চড় মারেন। তার চড় মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার শিকার হয় এই ইহুদি রাষ্ট্রটি। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে সম্মাননা জানায় রিয়াল মাদ্রিদ।

আট মাস কারাদণ্ডের পর আহেদকে গত জুলাই মাসে মুক্তি দেওয়া হয়। ইসরাইলি দখলিকরণের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিবাদের মুখপাত্রে পরিচিতি পেয়েছে আহেদ।

দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবশেষে বিজয়ী হতে চলেছে ফিলিস্তিনি বীর কন্যা আহেদ আল-তামিমি। নতুন প্রজন্মের এক বীরপ্রতীক হিসেবে ফিলিস্তিনের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ানো তামিমি আগামী রোববার মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনিদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা তামিমির মুক্তি পাচ্ছেন এমন সংবাদে ফিলিস্তিনিদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

ফিলিস্তিন প্রতিরোধ সংগ্রামের আইকন প্রতিবাদী তামিমিকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও। ‘রেডিয়েন্স অব রেসিসটেন্স’ নামের চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালে নির্মিত। এখানে আহেদ আল-তামিমির ১৪ বছর বয়সের গল্প বলা হয়েছে। তখন তিনি তার নয় বছর বয়সী বান্ধবী জেনা আজাদকে নিয়ে কাজ করতেন। এই দুইজন ফিলিস্তিনিদের কাছে কনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত। এক ঘণ্টার স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন, আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা জেসি রবার্ট। এখানে দুইজন তরুণ প্রতিবাদকারীর চোখ দিয়ে ফিলিস্তিনি-ইসরাইল দ্বন্দ্বকে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির বর্ণনায় লেখা হয়েছে, ফিলিস্তিনি কিশোররা প্রতিদিন কিভাবে তাদের জীবন অতিবাহিত করছে এবং দেশটির নতুন প্রজন্ম কিভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ করে যাচ্ছে।

অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের দুই হানাদার সেনাকে চড় ও লাথি দেয়ার ঘটনায় তাকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছিল। ১৭ বছর বয়সী এ তরুণীর বাবা  বাসেম আল তামিমি এ তথ্য জানিয়েছেন। আহেদের বাবা বাসেম আল তামিমি বলেন, তার মেয়ে ১৯ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার মুক্তির দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।বিশেষ মূল্যায়নে ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ কারো কারা মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারেন। গত মার্চে দেশটির সামরিক আদালত তাকে আট মাসের সাজা দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলের কারাগারে আটক রয়েছেন। যাদের মধ্যে সাড়ে তিনশর বেশি শিশু। বিচারের সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ১৭ বছরের এ সাহসী কিশোরী বলেছিল, আমিই হানাদার সেনাদের চড়িয়েছি, লাথি দিয়েছি। অবৈধ দখলদারদের অধীনে কোনো ন্যায়বিচার হতে পারে না। একটা অবৈধ আদালতে আমাদের বিচার চলছে।

এর পর ইসরাইলি আদালত আহেদকে আট মাসের কারাদণ্ড ও ১৪০০ ডলার জরিমানা করেছিল। ইসরাইলি আইনজীবী লাস্কি আইনি প্রক্রিয়াকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে জানিয়েছিল, আহেদের মতো অন্য ফিলিস্তিনি তরুণদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ থেকে দূরে রাখতেই তাকে এমন শাস্তি দেয়া হয়েছে।

কারাগারে আহেদ পড়াশোনা করে সময় কাটায় বলে জানিয়েছিলেন তার বাবা। তিনি বলেছিলেন,  তামিমিকে আট মাসের কারাদণ্ড প্রদান ও ১৪০০ ডলার জরিমানা করা পুরোপুরি অবিচার। ফিলিস্তিনিদের দমন করতেই এই সাজানো বিচারের আয়োজন করা হয়েছে। তার মেয়ে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়েছে এ জন্য যে, তাকে তিন বছর কারাদণ্ড দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল।

এত আলোচিত এই ঘটনাটি হচ্ছে- ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি তাদের বাড়ির প্রবেশপথের কাছে দাঁড়ানো দুই ইসরাইলি সেনার দিকে হেঁটে এগিয়ে যান কোঁকড়ানো ও সোনালি চুলের এই কিশোরী। সেনাদের কাছাকাছি গিয়ে নিজেদের বাড়ির আঙিনা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেন তিনি। কিন্তু ওই দুই সেনা তার কথায় কোনো কর্ণপাত না করে দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর ওই দুই সেনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু সেনারা কোনো তোয়াক্কা না করায় এক সেনার গালে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দেন তিনি। এ দৃশ্য কেউ একজন মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। এ ভিডিওকে ঘিরে ফিলিস্তিনি কিশোরীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি কর্তৃপকে ব্যবস্থা নিতে উসকানি দেয় ইহুদিবাদী সংবাদমাধ্যমগুলো।

থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলি সেনারা মাসহ ওই কিশোরী আহেদ ও তার ২১ বছর বয়সী চাচাতো বোন নূর নাজি আল তামিমিকে গ্রেফতার করে। আহেদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ, মোবাইল ও বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় তামিমির পরিবারের লোকজনকে সেনারা মারধরও করে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা ও এবিসি নিউজ