এ যেন অবিকল বঙ্গবন্ধু

162

লোকটির নাম আরুক মুন্সি। গোপালগেঞ্জর কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কামারোল গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে ১৯৬৯ সালের ৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর সুচাইলে স্থায়ী বসবাস। বাবা জহুর মুন্সি ও মা ময়না খাতুন। চাকরির কারণে তিন ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন ঢাকার হাতিরপুল পাওয়ার হাউস এলাকায়। ১৯৯৩ সাল থেকে গাড়িচালক পদে চাকরি করেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে (ডিপিডিসি)। অষ্টম শ্রেণি পাস বলে নিয়মিত চাকরিতে পদোন্নতি পাননি তিনি।

সুযোগ পেলেই আরুক মুন্সি ছুটে যান টুঙ্গিপাড়ায়, যেখানে কেটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব-কৈশোরসহ জীবনের অনেকটা সময়।

আরুক মুন্সির চেহারার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর চেহারার বিস্তর মিল। মজার বিষয়, হঠাৎ যে কেউ দেখলে বঙ্গবন্ধু বলে বিভ্রান্ত হবেন। বিশেষ করে যখন তিনি বঙ্গবন্ধুর মতো পোশাক পরে বের হন, তখন সাধারণ মানুষ তাকে ঘিরে ধরে। এমনকি একপলক আরুক মুন্সিকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে তার বাড়িতে ভিড় করেন। অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে থাকেন। কেউ কেউ তার সঙ্গে সেলফিও তোলেন। অনেকে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে শান্তি পান। কেউ আবার তার মাঝে বঙ্গবন্ধুর ছায়া খুঁজে পান। এসব ব্যাপার আরুক মুন্সিকে আনন্দই দেয়। আরুক মুন্সি বলেন, এসব ব্যাপার খুব ভালো লাগে। কখনো এ নিয়ে বিব্রত হই না।

সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও বঙ্গবন্ধুকে মনে-প্রাণে ধারণ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় নানা অনিয়ম আর অনাচার তাকে কষ্ট দেয়। এরপরেও স্বপ্ন দেখেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

পরিবার নিয়ে আরুক মুন্সি বলেন, আমার বাবা কৃষক ছিলেন। আমরা চার ভাই। ছোট থাকতে বাবা মারা যান। হতদরিদ্র হওয়ায় রাতইল নায়েবুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করে ঢাকা গিয়ে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করি।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে আরুক মুন্সি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় আর কোনো বঙ্গবন্ধু জন্মাবে না। তাই নি‌জেকে ‌শুধু বঙ্গবন্ধুর আদ‌র্শের সৈ‌নিক বলেই ভাবি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ ক‌রে চল‌তে চাই। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করতে চাই।

তবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় নানা অনিয়ম, দুর্নী‌তি, শোষণ-নি‌পীড়ন পীড়া দেয় আরুক মুন্সিকে। বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনোই এসব পছন্দ করতেন না। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি বঙ্গবন্ধু চাইতেন না।

পার্শ্ববর্তী এলাকার মেম্বার ফায়েক আলী খান বলেন, আরুক মুন্সিকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি-জানি এবং সে আমার ক্লাসফ্রেন্ড। গরিব হলেও সৎ নীতির মানুষ সে। চেহারা ও কর্মকাণ্ড বঙ্গবন্ধুর মতো হওয়ার কারণে স্কুলের বন্ধুরা বলত, কে বলেছে মুজিব নাই, মুজিব মোদের আরুক ভাই।

কাশিয়ানী উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান বলেন, আরুক মুন্সি দেখতে অবিকল বঙ্গবন্ধুর মতো দেখায়। প্রথমবার যখন তাকে দেখি তখন ভীষণ অবাক হয়েছিলাম।

কাশিয়ানীর কালনা এলাকার মিনা সুলতানা নামে বঙ্গবন্ধুভক্ত এক নারী জানান, আমার কাছে বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা ও গান লিখি। বঙ্গবন্ধুকে নিজ চোখে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তবে, আমি যখন জানলাম বঙ্গবন্ধুর চেহারার সঙ্গে হুবহু মিল আছে আরুক মুন্সির, তখন তার কাছে ছুটে আসি দেখার জন্য। সত্যিই আমি অবাক হয়েছি তাকে দেখে। তিনি যেন বঙ্গবন্ধুর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

সূত্র : সোনালী নিউজ