ঈদের জন্য প্রস্তুত দৌলতদিয়া ঘাট

43

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের আগেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এ সময় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ পড়ে। এ রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার ছোট-বড় যানবাহন নদী পারাপার হয়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এ রুটে ঈদের আগে ও পরে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

ঈদুল ফিতরের এ বাড়তি চাপ সামলাতে সব ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। ঘাট এলাকার সড়কে লাইটিং, বাথরুম, রাস্তা সংস্কারসহ নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ। এছাড়া যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘাট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও যানজটমুক্ত রাখেতে র্যাব, পুলিশের পাশাপশি থাকবে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নদীতে থাকবে নৌ-পুলিশ।

এদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে ঈদে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগে তিনদিন ও ঈদের পরে তিনদিন জরুরি ও পচনশীল পণ্য ছাড়া সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে।

দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচল করবে ছোট-বড় ১৯ টি ফেরি। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া-কাজিরহাট রুটে ৩৪টি লঞ্চ চলাচল করবে। যার সবগুলো এখন প্রস্তুত। এছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্তের ছয়টি ফেরি ঘাটই সচল রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়া ফেরি মেরামতের জন্য পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা জানান, ঘাটের বর্তমান অবস্থা থাকলে এবং ফেরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলে আসন্ন ঈদুল ফিতরে দৌলতদিয়ায় কোনো যাত্রীর ভোগান্তি হবে না। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে এবার অনেকগুলো ফেরি আছে। এছাড়া ঘাট এলাকার পরিবেশও ভালো মনে হচ্ছে।

RAJBARI-DOULOTDIYA-GHAT-1

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট সুপার ভাইজার মোফাজ্জেল হোসেন জানান, ঈদে যাত্রী পরিবহনের জন্য তারা ৩৪টি লঞ্চ প্রস্তুত করেছেন। ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ চলাচল করবে না । এছাড়া ঈদে যাত্রীর চাপ বেশি থাকলেও তারা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করবেন না। ঘাট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। পরিবেশ এমন থাকলে ঈদের আগে ও পরে কোনো ভোগান্তিতে পড়বে না যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে এবার ছোট-বড় ১৯টি ফেরি চলাচল করবে। এছাড়া ফেরির যে কোনো সমস্যায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা এবং দৌলতদিয়া প্রান্তের ছয়টি ফেরি ঘাট সচল রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো সমস্যা না হলে আর ফেরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলে ঈদে কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমানে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। ঈদের আগে আরও দুটি ফেরি বহরে যুক্ত হবে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান, ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি লাঘবে ঘাট এলাকার প্রতিটি দফতরের কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েকবার সভা করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। সড়কে সিরিয়াল ভেঙে কোনো গাড়িকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারপার করা হবে না এবং কেউ সড়কে ঝামেলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘাট এলাকার ছিনতাইকারী, মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টি, দালাল চক্র নিয়ন্ত্রণেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।

রাজবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হুসাইন জানান, ঈদে দৌলতদিয়া প্রান্ত দিয়ে যাত্রী ও যানবাহনের যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে মনিটরিংয়ের পাশাপশি যানজট নিরসনে নিয়মিত তদারকি করা হবে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ভাঙাচোরা রাস্তাগুলো ঈদের আগে মেরামত করার জন্য সড়ক বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নেয়ার কোনো অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘাট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব, পুলিশের পাশাপশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে।